
গোপালগঞ্জ সড়ক জোন ও সড়ক সার্কেল অফিসে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্য চলার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার সড়ক বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম এই দুই দপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং প্রায় সব ধরনের টেন্ডার কার্যক্রমেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২ শতাংশ হারে উৎকোচ আদায় করা হয়। ঘুষ ছাড়া এখানে কার্যত কোনো কাজই সম্পন্ন হয় না বলে অভিযোগ।
গত ১৭ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম এবং গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলামকে ঘুষ দিতে আসার সময় ১০ কোটি টাকাসহ শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের এক পিওনকে পুলিশ আটক করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নির্দোষ গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেনকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠায়।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই সড়ক জোন ও সার্কেল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর ধীরে ধীরে দুই শীর্ষ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের তথ্য সামনে আসতে শুরু করে।
সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলাম সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুই দিন অফিস করেন। বাকি সময় তিনি ঢাকায় বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিপিআর ও ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলাম—উভয়েই সরকারি ডুপ্লেক্স বাস ভবনের পরিবর্তে পরিদর্শন বাংলোতে অবস্থান করে সরকারি খরচে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। এ ক্ষেত্রে সরকারি বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া বাবদ অর্থ কর্তণ করা হচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
ঘুষ কাণ্ড ধামাচাপা দিতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম তার দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর মাধ্যমে উৎকোচ প্রদান করে বিষয়টি ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলার অনুমোদন দিয়ে দুদক প্রধান কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়েছে। এদিকে, ১০ কোটি টাকার ঘুষের দাতা ও গ্রহীতাসহ প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি নির্দোষ উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।


















