
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন সুয়াগাজি এলাকায় গত ১৬ অক্টোবর বিকেল বেলায় এক ব্যবসায়ী আমিনের ফার্মে পরিকল্পিতভাবে সাজানো ফাঁদ তৈরি করে মাদক রেখে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে থানার এএসআই জামশেদ ও কনস্টেবল আমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা সিভিল ড্রেসে উপস্থিত থেকে প্রথমে নিজেদের পরিচয় গোপন করে — পরে জানা যায় আসলে ঘটনাস্থলে ছিলেন এএসআই জামশেদ ও কনস্টেবল আমান। ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশার চালক ছিলেন বামিশার শাহীন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আমিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বিকেলে ওই দুই পুলিশ সদস্য তার ফার্মে এসে এক ইনফরমারের মাধ্যমে ফার্মের ভেতরে মাদকদ্রব্য রেখে তাকে জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে তারা লিখিত অভিযোগ না নেয়া এবং মামলা করা না হওয়ার শর্তে প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে। দীর্ঘ আলোচনা-সমঝোতার পর সন্ধ্যার দিকে তারা ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় — দাবি করেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, অভিযুক্তরা আগেও এ রকম ‘সাজানো’ ঘটনা সৃষ্টি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী থেকে অর্থ আদায় করে এসেছে; প্রতিবারই তারা অন্য কারো নাম ব্যবহার করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে খবর পাওয়া মাত্রই সাংবাদিকরা এএসআই জামশেদকে ফোন করে সাতবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন; সব কল রিসিভ করা হয়নি। কনস্টেবল আমানকেও ফোনে পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।
থানার ওসির বরাতেও ঘটনার একটি দিক উঠে এসেছে — সদর দক্ষিণ ওসি বলেন, “আমি আমার ফোর্সকে স্পষ্টভাবে বলেছি — কেউ যদি অপকর্মে জড়িত থাকে, আমি তার দায় নেব না; উপরের মহোদয়দের (পুলিশ সুপার ও সার্কেল) কাছে বিষয়টি জানাবো। থানার মধ্যে কোন আসামি নিয়ে আসলে তাকে মামলা দিতে হবে — টাকা খেয়ে আসামি ছাড়ানো হবে না। থানার বাইরে অপরকিছু করলে সেটাও আমি নেব।” ওসির এই বক্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী আমিন জানিয়েছেন, তিনি কুমিল্লা পুলিশ সুপার বরাবর, ডিআইজি রেঞ্জ চট্টগ্রাম বরাবর, আইজিপি বরাবর এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করবেন এবং এই লেখার প্রয়োজনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা মহাপর্যায় থেকে স্বাধীনভাবে তদন্তের দাবি জোরদার করেছেন যাতে ঘটনাটির সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা যায় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজ্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার অফিসিয়াল নথি বা উচ্চপর্যায়ে এ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না — সেটা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্তে সততার আশ্বাস ও দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয় জনগণ সরব। তদন্তচাহিদা ও সমাজিক উদ্বেগের মধ্যে এলাকার বানিজ্যিক কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরী হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত ব্যাকগ্রাউন্ড:
অভিযোগের শর্ত: ঘটনার দিন (১৬ অক্টোবর) বিকেলে সিভিল ড্রেসে এএসআই জামশেদ ও কনস্টেবল আমান উপস্থিত।
অজানা ইনফরমারের মাধ্যমে ফার্মে মাদক রেখে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর চেষ্টা।
দাবি করা ছিল ৩ লাখ টাকা; আলোচনার পর ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীর বক্তব্য।
ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশার চালকের নাম — বামিশার শাহীন (অভিযোগে উল্লেখ)।
ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার, ডিআইজি রেঞ্জ — চট্টগ্রাম, আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বরাবর।
অভিযোগকারী ও স্থানীয়দের দাবি: দ্রুত, স্বচ্ছ ও সবল তদন্ত; দোষী পুলিশ সদস্যদের


















