
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ফসলি জমির মাটি লুটপাটকারী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এখন নানামুখী হয়রানির শিকার হচ্ছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হাসান। স্থানীয় কামরুল-নুরু-মোশারফ সিন্ডিকেটের অবৈধ কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাতিয়াইন রোড সংলগ্ন পলাশ ব্রিক ফিল্ড এলাকায় দিনরাত ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে সাবাড় করছে এই সিন্ডিকেট। তাদের রয়েছে একটি সশস্ত্র বাহিনী, যারা প্রতিবাদকারী গ্রামবাসীকে তুলে নিয়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এছাড়া এই চক্রের বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
গত ১৩ জানুয়ারি এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামেন এসআই নাজমুল হাসান। ঘটনার সত্যতা পেয়ে ১৭ জানুয়ারি সিন্ডিকেট প্রধান কামরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই শুরু হয় নাটক। কামরুলকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যরা এখন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুলের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে বানোয়াট ও মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করিয়ে তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা চলছে।
গ্রেফতারকৃত কামরুলসহ এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও হবিগঞ্জে একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে:
- ১. হত্যা মামলা: ডিএমপি বিমানবন্দর থানা, এফআইআর নং-১১ (১৪ নভেম্বর ২০২৫)। ধারা: ৩০২/১৪৩/১৪৯ সহ দণ্ডবিধি।
- ২. মাটি লুট ও বালুমহাল মামলা: মাধবপুর থানা, মামলা নং-৩২ (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫)। এই মামলায় জব্দ হয়েছিল ১টি ভেকু ও ড্রাম ট্রাক।
- ৩. দাঙ্গা ও গুরুতর জখম মামলা: মাধবপুর থানা, মামলা নং-১২/৩৯৪ (১০ ডিসেম্বর ২০১৬)।
এজাহারভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন: সাহেদ মিয়া (৩৩), স্বপন মিয়া (৩৮), রনক মিয়া (৩৫), মোঃ ফয়সল মিয়া (৩৫), জসিম মিয়া (৪৩), আমিন মিয়া (৪৫) এবং আব্দুল কাদির ওরফে মেহের আলী (৪৯) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২২ জন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একজন পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে যদি নিজেই হয়রানির শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষ কার কাছে যাবে? যদি এই সিন্ডিকেটকে এখনই শক্ত হাতে দমন করা না হয়, তবে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
প্রশাসনের উচিত এই ‘মাটি খেকো’ সিন্ডিকেটের সকল সদস্যকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং সাহসী কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।


















