
গত ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন মিয়াবাজার এলাকায় সশস্ত্র ডাকাত দল কর্তৃক একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতিসহ ০১ জনকে গুলি করে গুরুতর আহত করে। উক্ত ঘটনা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন রাতে গ্রেফতারকৃত আসামীসহ ১১ জন ডাকাত মাস্ক ও টুপি পরে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন মিয়াবাজারে প্রীতি জুয়েলার্স নামক দোকানে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। এসময় তারা দোকানে বসে থাকা পলাশ দত্তকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দোকানে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করতে থাকে। স্বর্ণালংকার লুট শেষে তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় পাশের দোকানদার চিৎকার করলে ডাকাত দল তাকে গুলি করে এবং ঘটনাস্থলে ককটেল বিস্ফোরন করে মাইক্রোযোগে পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলেই ডাকাত দলের সদস্য কাওছার আহমেদ (৩৫) কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় লুটকৃত দোকানের মালিক রবীন্দ্র চন্দ্র দত্ত (৪৪) বাদী হয়ে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-১০, তারিখঃ ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যা ব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি ও ছায়াতদন্ত শুরু করে।
উক্ত কুখ্যাত ডাকাত দলকে গ্রেফতার করতে র্যা ব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডাকাত দলের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ডাকাত দলের অন্যতম সদস্য হাকিমের পরিচয় উন্মোচিত হয় এবং তার অবস্থান মাদারীপুরে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ রাতে র্যা বের অভিযানে মাদারীপুর জেলার সদর থানাধীন শহরস্থ হোটেল সার্বিক ইন্টারন্যাশনাল এর সামনে অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত অন্যতম আসামী মোঃ আব্দুল হাকিম জোমাদ্দার (৪৮), পিতা-মৃত ইউসুফ জোমাদ্দার, সাং-মহেশপুর, থানা-বাকেরগঞ্জ, জেলা-বরিশাল’কে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী উক্ত ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামী পূর্বে র্যা ব কর্তৃক ০২ বার ধৃত হয় এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলা সহ মোট ১০ টি মামলা রয়েছে।


















