
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার আলোচিত “সাজানো ফাঁদে টাকা আদায়” মামলার অভিযুক্ত এএসআই জামশেদ ও কনস্টেবল আমান অবশেষে বদলির আদেশ পেয়েছেন। তবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমিনের ক্ষোভ—
> “তাদের বদলি হলো ঠিকই, কিন্তু আমার তিন লক্ষ টাকা কি প্রশাসনের বিবেকেই হারিয়ে গেল?”
বদলি— শাস্তি নয়, ‘রুটিন ট্রান্সফার’?
জানা গেছে, ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি ‘খতিয়ে দেখার আশ্বাস’ দিলেও, কোনো বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত ছাড়াই জামশেদ ও আমানকে তড়িঘড়ি করে অন্যত্র বদলি করা হয়।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, এএসআই জামশেদকে মনোহরগঞ্জ থানায় বদলি করা হয়েছে— যা স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, “একটি দুঃখজনক ও রহস্যজনক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত”।
স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ভাষায়—
> “এমন অভিযোগের পর যেখানে প্রশাসনিক তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, সেখানে বদলি মানে তো পুরস্কার পাওয়া!”
ভুক্তভোগীর হতাশা: “বদলি নয়, আমি ন্যায়বিচার চাই”
ব্যবসায়ী আমিন বলেন,
> “আমাকে সাজানো ফাঁদে ফেলে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়েছিল। এখন শুনছি তাদের বদলি হয়েছে মনোহরগঞ্জে। কিন্তু আমার টাকা ফেরত দেয়নি কেউ। আমি এখনো প্রশাসনের ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি।”
তিনি আরও বলেন,
> “আমি ভেবেছিলাম সার্কেল অফিসার তদন্ত করবেন, কিন্তু উনি নীরব থাকলেন। বদলি হয়ে গেল, আর আমি ক্ষতির বোঝা নিয়েই বসে আছি।”
সদর সার্কেল কর্মকর্তার নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ সার্কেল অফিসারকে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
তার এই নীরবতা নিয়ে সাংবাদিক সমাজে প্রতিক্রিয়া—
> “একজন সার্কেল অফিসারের নৈতিক দায়িত্ব কি শুধু বদলির কাগজে সই করা, নাকি ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা?”
প্রশাসনের বিবেকের প্রশ্ন
সুশীল সমাজের এক প্রতিনিধি বলেন,
> “এই ঘটনা কেবল দুই পুলিশ সদস্যের নয়— এটি প্রশাসনের নৈতিক দায়েরও প্রতিফলন। তিন লক্ষ টাকার বিষয়টি এখন প্রশাসনের বিবেকের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।”
আরও যোগ করেন,
> “বদলি কোনো শাস্তি নয়— যদি তারা দোষী হন, তাহলে কেন শাস্তি নেই? আর যদি নির্দোষ হন, তাহলে হঠাৎ বদলি কেন?”
ন্যায়বিচারের দাবিতে স্থানীয় সমাজের আহ্বান
ভুক্তভোগী আমিন ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,
> “বদলি দিয়ে দায় এড়ানো নয়— ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে, এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর টাকা ফেরত নিশ্চিত করতে হবে।”
এএসআই জামশেদকে মনোহরগঞ্জ থানায় বদলি করা হয়েছে, কনস্টেবল আমানকেও সদর দক্ষিণ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু ভুক্তভোগীর তিন লক্ষ টাকা ফেরত হয়নি,
আর সদর দক্ষিণ সার্কেল কর্মকর্তার নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—
“বদলির কাগজে সই দিয়ে কি প্রশাসন তার বিবেকও বদলে ফেলল?”


















