বুধবার , ১৯ নভেম্বর ২০২৫ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:

কুমিল্লার বরুড়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

কুমিল্লা-২: প্রচারণার শুরুতেই মাঠ উত্তপ্ত, মতিন ও সেলিম ভূঁইয়ার সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

“মাধবপুরের ত্রাস কামরুল গ্রেফতার, তবে কমেনি সিন্ডিকেটের দাপট; নেপথ্যে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হয়রানি মিশন!”

চট্টগ্রামে প্রকাশ্য বন্দুকযুদ্ধে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত, জিম্মি ৩ র‍্যাব সদস্য

অপরাধীদের ত্রাস, শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে: কুমিল্লার ‘টপ পুলিশ অফিসার’ এখন রাকিবুল ও শাহপরান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: গেন্ডারিয়ায় শোকের ছায়া ​

ডিবিতে থাকাকালীন সিনিয়রের তথ্য ফাঁস: কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির এএসআই মোস্তাফিজের অডিও ভাইরাল

খুলশিতে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির দাপট ‘ক্যাশিয়ার’ পরিচয়ে কে এই এমরান

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ২:৪০ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: ১০১ বার

চট্টগ্রাম নগরের খুলশি থানা এলাকার বিভিন্ন গেস্ট হাউজ, আবাসিক হোটেল এবং মাদক–সম্পর্কিত স্পটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে সংগঠিতভাবে চাঁদাবাজি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এমরান হোসাইন নামে এক যুবক, যিনি নিজেকে থানার ক্যাশিয়ার বলে পরিচয় দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ধোলাই নবাবপুরের বাসিন্দা এমরান হোসাইন প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর ধরে চট্টগ্রাম শহরে, বিশেষ করে খুলশি থানাকেন্দ্রিক এলাকায় ‘পুলিশি প্রভাব’ দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছেন। স্থানীয়রা বলছেন—নিজ এলাকায় তেমন কোনো পরিচিতি না থাকলেও চট্টগ্রামে এসে তিনি ‘অদৃশ্য শক্তি’র আশ্রয়ে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়ান। জানাযায় সে গত কয়েক বছর পূর্বেও সিএনজি অটোরিকশা চালাতো বর্তমানে এইসব অপকর্ম করে বনে গেছেন কয়েকশত কোটি টাকার মালিক

অভিযোগ: প্রতি মাসে ১৪১৫ লাখ টাকা আদায়

একাধিক হোটেল–গেস্ট হাউজ মালিকদের দাবি—এমরান খুলশি থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসারের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপরাধ-সংবেদনশীল স্পট থেকে মাসে অন্তত ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা তুলে থাকেন।
চাঁদা দিতে দেরি হলে হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া, ‘অভিযান’ দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা—এসব অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগেও এবং পরেও এমরানের প্রভাব একই রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ ধরনের চাঁদাবাজি বেশি হলেও এখন কিছুটা ‘গোপনে’ করছেন তিনি।

একাধিক ব্যবসায়ীর অভিমত—
থানার কারও সায় না থাকলে এভাবে বছরের পর বছর চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়।

পুলিশের অবস্থান: “এমরানকে চিনি না

বিষয়টি জানতে চাইলে খুলশি থানার ওসি শাহীনুর আলম  (১৯ নভেম্বর)  বলেন—
এমরান হোসাইন নামে কাউকে আমি চিনি না। হোটেল বা গেস্ট হাউজে কেউ চাঁদাবাজি করতে গেলে তাকে ধরে  মার দিয়ে যেন আমাকে ফোন দেন।”  প্রতিবেদক যখন বললেন আপনি তো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জন্য বলছেন। এমন প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন বেধে রাখতে তো কোন সমস্যা নেই। প্রতিবেদক যখন বললো যেহেতু আপনাদের নাম উঠে এসেছে সে ক্ষেত্রে আপনাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে , তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি তা করতে রাজি নহে। পরবর্তীতে তিনি রাজি হলে তার (এমরান) এর তথ্য প্রদান করা হয়। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন ।

যেসব হোটেলগেস্ট হাউজে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার অভিযোগ

ফয়স লেক এলাকার অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অভিযোগ নিশ্চিত করেছেন—

  • স্বপ্ন নিবাস
  • মোটেল সিক্স সুপার সনিক
  • প্রিন্স আবাসিক হোটেল
  • ফয়স লেক গেস্ট হাউজ

প্রিন্স আবাসিক হোটেলের মালিকের বক্তব্য

রাজিব হাসান (রাজু) বলেন—
আমার ম্যানেজারের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়েছে। খুলশি থানার ভয় দেখিয়েছে। এমরানকে খুঁজছিপেলে ওকে পিটিয়ে বিরিয়ানি বানাব।
এই বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত অভিযোগ—রিপোর্টে উদ্ধৃতি হিসেবে রাখলাম।

ফয়স লেক গেস্ট হাউজের মালিকের বক্তব্য

শামীম আহমেদ বলেন—
আগে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এই এমরান পুলিশের নামে চাঁদা তুলতো এখন সরকার নেইচাঁদা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” তার পরও এসে আমাদেরকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে শাসিয়ে যাচ্ছে।

চাঁদা আদায়ের সাম্প্রতিক অভিযোগ

সূত্রমতে—

  • ১৪ অক্টোবর: ‘রূপসী বাংলা’ ও ‘প্রিন্স আবাসিক হোটেল’ — ৭০,০০০ টাকা
  • ১৬ অক্টোবর: ‘স্বপ্ন বিলাস হোটেল’ — ৬৫,000 টাকা
  • চলতি মাসে: মোটেল সিক্স সুপার সনিক — ১,০০,০০০ টাকা

এ ছাড়া মতিঝর্ণা এলাকার একাধিক মাদক স্পট থেকেও নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কেন ব্যবসায়ীরা মুখ খুলছেন না?

স্থানীয়দের দাবি—ফয়স লেক এলাকার কিছু আবাসিক হোটেল ও মোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। যেসব প্রতিষ্ঠান এসব ‘অপ্রকাশ্য ব্যবসা’ গোপন রাখতে চান, তারাই নাকি নিয়মিত চাঁদা দিয়ে আসছেন।
সেই ভয়েই অনেক মালিক গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে চান না।

একটি সূত্র জানায়

১৯ নভেম্বর রাতে একাধিকবার কল করলে তিনি ফোন ধরেন নি। জানা গেছে, তিনি চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় বসবাস করেন।

বিশ্লেষণ সামগ্রিক চিত্র

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উঠে এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—

  • পুলিশের নামে চার–পাঁচ বছর ধরে কীভাবে চাঁদাবাজি সম্ভব হলো?
  • কেউ প্রভাব বিস্তার না করলে কি এই ধরনের দাপট সম্ভব?
  • ব্যবসায়ীরা ভয় পায় কেন?
  • অভিযোগ সত্য হলে পুলিশের তদারকি কোথায় ছিল?

এই প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

চট্টগ্রামের খুলশি থানাকেন্দ্রিক এলাকায় পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং পুলিশের ভাবমূর্তি, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, পর্যটন খাতের সুনাম এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জনআস্থার ওপর সরাসরি আঘাত

 

Facebook Comments Box

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

সর্বশেষ - সারাদেশ

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাদেশ

আপনার জন্য নির্বাচিত

সংবাদ প্রকাশ করায় মারধরে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে সাংবাদিক

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন

দেখা মিলল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের

আগুনে দগ্ধ শিশু ফাতেমার দায়িত্ব নিলেন রবিউল ইসলাম নয়ন

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দার অভিযানে ৩০ কেজি গাঁজাসহ আটক ০৭

পানিতে ফেলে শিশু হত্যার চেষ্টার আসামি স্কুল শিক্ষক শাহাজাহান কারাগারে

মার্ডার আসামির রিমান্ড বাতিল করে দিতে চাওয়া ভুয়া এসআই গ্রেপ্তার

ফাঁদ পেতে টাকা আদায়! কুমিল্লা সদর দক্ষিণে এএসআই জামশেদ ও কনস্টেবল আমানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

Scientists discover largest black hole jet ever seen in the early universe — its twice as long as our galaxy

কুমিল্লার ৪ ব্যাংকে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮১২ কোটি ১২৭ লাখ টাকা